সিঙ্গুরে হার কেনো ? গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নাকি পরিষেবা না পাওয়া মানুষের ক্ষোভ ? দিদিকে বলো কর্মসূচির মাধ্যমে তারই উত্তর খুঁজছেন সিঙ্গুরের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য

সিঙ্গুর, হুগলি, রবিবার

সমস্ত বিধানসভা এলাকায় শুরু হয়েছে দিদিকে বলো কর্মসূচি। সেইমতো হুগলির সিঙ্গুরে দিদিকে বলো কর্মসূচি চালাচ্ছেন সিঙ্গুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। দিদিকে বলো কর্মসূচি নিয়ে রবিবার সকালে সিঙ্গুরের খাসেরচক গ্রামে যান তিনি। সেখানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। বিলি করেন দিদিকে বলো কার্ড। মানুষের সমস্যা, অভাব অভিযোগের কথা শোনেন তিনি। গ্রামের মহিলারা কথা বলেন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য সঙ্গে।

স্থানীয় তৃণমূল নেতা অশোক দাস-এর বাড়িতে বসে গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। দলীয় নেতৃত্বদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনায় উঠে এসেছিল গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের প্রসঙ্গ।

গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে সমূলে উৎপটিত করে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে বলে আওয়াজ তোলেন দলের কর্মীরা। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে দলীয় পার্টি অফিসের চাবি হাতে নেই বলেও অভিযোগ করেন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা।

এরপর এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। বিধবা ভাতা ও বার্ধক্য ভাতা, বাংলার বাড়ি ইত্যাদি একাধিক সরকারি প্রকল্পের বিষয় এলাকার মানুষের অভাব অভিযোগের কথা শোনেন বিধায়ক। দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি কিভাবে সমস্যার সমাধান হতে পারে তারও পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে সমস্যা নথিভূক্ত করে দেখেন বিধায়ক।

ব্যক্তিগত সমস্যার পাশাপাশি এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি। রাস্তা, জল নিকাশি ব্যবস্থা ইত্যাদি সমস্যার কথা বিধায়কের সামনে তুলে ধরেন সিঙ্গুরের খসেরচকের বাসিন্দা মিলন দাস। মিলন দাসের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে শোনেন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। পানীয় জলের সমস্যার কথাও এদিন বলেন খাসেরচকের বাসিন্দারা।

সবশেষে বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য বলেন, মানুষের অভাব অভিযোগের কথা আমরা শুনেছি গুরুত্ব দিয়ে, সেগুলো বিবেচনা করা হবে। সরকারি সুযোগ সুবিধা যাতে মানুষ পায় সেই বিষয়টা দেখতে হবে একই সঙ্গে হুগলি লোকসভা নির্বাচনে সিঙ্গুর বিধানসভা কেন্দ্রে হার প্রসঙ্গে তিনি বলেন মানুষের কাজ যে করবে মানুষ তাকেই ভোট দেবে এর কোন বিকল্প নেই। মানুষের কাজ ভালো করে করাই তৃণমূলের অন্যতম লক্ষ্য বলেই জানিয়েছেন বিধায়ক।

গত ২৯ শে জুলাই নজরুল মঞ্চে সাংবাদিক সম্মেলন করে দিদিকে বলো কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন ১০০ দিনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে যেখানে এক হাজার গ্রামে স্থানীয় বিধায়করা গিয়ে মানুষের সমস্যা, অভাব, অভিযোগের কথা শুনবেন। মূলত লোকসভা নির্বাচনে খারাপ ফলের পরই এই অভিনব কর্মসূচিকে সামনে এলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

Be the first to comment on "সিঙ্গুরে হার কেনো ? গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নাকি পরিষেবা না পাওয়া মানুষের ক্ষোভ ? দিদিকে বলো কর্মসূচির মাধ্যমে তারই উত্তর খুঁজছেন সিঙ্গুরের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*


Skip to toolbar